চাহিদা ও রুপির বিনিময় হার কমে যাওয়ায় বিশ্বের শীর্ষ রফতানিকারক ভারতে চালের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। টানা তিন সপ্তাহ ধরে কমার পর ভোগ্যপণ্যটির দাম ১৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
কলকাতাভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক ট্রেডিং হাউজের একজন ডিলার বলেন, ‘নববর্ষের ছুটির কারণে এশিয়া ও আফ্রিকার ক্রেতাদের চাহিদা কমে গেছে। এতে চালের দাম কমে গেছে। তবে ছুটি শেষ হওয়ার পর আগামী সপ্তাহে চাহিদা আবারো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
গত সপ্তাহে ভারতীয় মুদ্রা রুপির বিনিময় হার ডলারের বিপরীতে রেকর্ড সর্বনিম্নে পৌঁছায়। অবশ্য এতে রফতানিকারকদের মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনা বেড়েছে।
বর্তমানে ভারতের ৫ শতাংশ খুদবিশিষ্ট সেদ্ধ চাল প্রতি টন ৪৩৬-৪৪২ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৩৯-৪৪৫ ডলার। এছাড়া ভারতের ৫ শতাংশ খুদবিশিষ্ট সাদা চালের দাম টনপ্রতি ৪৪০-৪৪৯ ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে থাইল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে ভারতের রফতানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে থাইল্যান্ডের চাল রফতানি কমার আশঙ্কা রয়েছে। দেশটির এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি থাই চাল রফতানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমবে।’
বর্তমানে থাইল্যান্ডের ৫ শতাংশ খুদবিশিষ্ট চাল প্রতি টন ৪৯০-৫০২ ডলার দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহেও প্রায় একই দামে বিক্রি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে চাহিদা কমে গেছে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্যাংককভিত্তিক একজন চাল ব্যবসায়ী বলেন, ‘চাহিদা কমায় চালের দাম আরো কমতে পারে।’
ভিয়েতনাম ফুড অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, দেশটির ৫ শতাংশ খুদবিশিষ্ট চাল প্রতি টন ৪৮১ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৮৫ ডলার। হো চি মিন সিটিভিত্তিক একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘ছুটির কারণে এ সপ্তাহে বাণিজ্য কার্যক্রম ধীর হয়ে গেছে।’
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ২৫ জানুয়ারি শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী চান্দ্র নববর্ষের ছুটির পরে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা এ সপ্তাহের শুরুতে বলেছেন, দেশে চালের কোনো ঘাটতি নেই। যদি কোনো ঘাটতি দেখা দেয়, তবে তা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। তবে গত এক বছরে চালের দাম প্রতি কেজি ১০-১২ টাকা বেড়েছে, যা ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।